অ্যাসোসিয়েশন পরিচিতি

আমরা দায়িত্বশীল শিক্ষা, মূল্যায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এগিয়ে নিই।

সংস্থার নাম
জাপান স্পেসিফাইড স্কিলড এডুকেশন সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন
আনুষ্ঠানিক ইংরেজি নাম
JAPAN SPECIFIED SKILLED EDUCATION SUPPORT ASSOCIATION
প্রতিনিধি
Norio Hattori
পদবি
প্রতিনিধি পরিচালক
প্রতিষ্ঠার তারিখ
২২ জুলাই ২০২৫
আইনগত法人 নিবন্ধন নম্বর
0100-05-040414
ঠিকানা
1-30-5 Nihonbashi Kakigaracho, Chuo-ku, Tokyo, Japan
ফোন
03-6810-7025
ইমেইল
jsea@kizuna.plus
সংস্থার ধরন
অলাভজনক শিক্ষা সহায়তা সংস্থা; registered support organization নয়।
প্রধান কার্যক্রম
আগমন-পূর্ব শিক্ষা, জাপানি ভাষা, পেশাগত দক্ষতা, নিরাপত্তা, গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সহযোগিতা।

দর্শন

শিক্ষার মাধ্যমে জাপান ও বিশ্বকে যুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ ও গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান—উভয়ের বিকাশের পরিবেশ গড়া।

উদ্দেশ্য

জাপানে কাজের আগে প্রয়োজনীয় শিক্ষার সুযোগ ও উন্নয়নব্যবস্থা তৈরি করে সুস্থ কর্মসূচি পরিচালনায় অবদান রাখা।

কার্যক্রমের নীতি

জনস্বার্থ, স্বচ্ছতা, শিক্ষার মান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া।

সংস্থার অবস্থান

আমরা কর্মী নিয়োগ বা দালালি করি না; স্বাধীন ও নিরপেক্ষ শিক্ষা ও মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করি।

আমাদের দর্শন ও উদ্দেশ্য

মানুষ পাঠানো নয়, মানুষের ভবিষ্যৎ গড়া

শুধু কর্মী পাঠানো নয়—মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা

অ্যাসোসিয়েশন আন্তর্জাতিক মানবসম্পদকে কেবল শ্রমশক্তি হিসেবে দেখে না। প্রত্যেকে যেন জাপানি ভাষা, পেশাগত দক্ষতা, জাপানের সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন সঠিকভাবে শিখে নিরাপদে কাজ করতে ও বিকশিত হতে পারে—এমন পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।

জাপানে কাজ করা যেন সাময়িক চাকরির সুযোগে শেষ না হয়; এটি ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা হোক। একই সঙ্গে নতুন মানুষ, জ্ঞান ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় জাপানি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখুক।

আমরা শিক্ষার মাধ্যমে দুই পক্ষকে যুক্ত করি।

অ্যাসোসিয়েশনের মৌলিক নীতি

1. শিক্ষাকে সবকিছুর সূচনা করা

নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে আগমন-পূর্ব জাপানি ভাষা, দক্ষতা, পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, জীবনযাপন ও সংস্কৃতি শিক্ষা অপরিহার্য।

শুধু পরীক্ষায় পাস নয়; কর্মক্ষেত্র ও সমাজে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, বিচারক্ষমতা ও যোগাযোগ দক্ষতা গড়ে তুলি।

জাপানে আসার আগে জাপানি ভাষা ও কর্মনিরাপত্তা শিখছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা
আগমন-পূর্ব শিক্ষা নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী ও উন্নয়নমুখী কাজের ভিত্তি তৈরি করে।

2. শিক্ষা ও মূল্যায়নের মান নিশ্চিত করা

দেশ বা প্রতিষ্ঠানভেদে মানের বড় পার্থক্য রোধে অভিন্ন পাঠ্যক্রম, উপকরণ, নির্দেশনা ও মূল্যায়ন মান তৈরি করি।

শিক্ষা নেওয়া হয়েছে কি না শুধু নয়, কী শিখেছে এবং কী করতে পারে তা যথাযথভাবে যাচাই করি।

3. অস্বচ্ছ দালালি ও অতিরিক্ত বোঝা দূর করা

জাপানে আসার আগে আন্তর্জাতিক মানবসম্পদকে অতিরিক্ত দালালি ফি বা ঋণের বোঝা বহন করতে দেওয়া যায় না।

সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জাপানের গ্রহণকারী পক্ষের সঙ্গে মিলে তথ্য ও খরচে স্বচ্ছতা বাড়াই এবং অসাধু দালালের ওপর নির্ভরতা কমাই।

4. আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ ও গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান—উভয়কে সহায়তা করা

শুধু বিদেশি কর্মীর ওপর মানিয়ে নেওয়ার দায় চাপানো যাবে না। প্রতিষ্ঠানকেও ব্যবস্থা, সংস্কৃতি, ধর্ম, জীবনযাপন ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পদ্ধতি বুঝতে হবে।

দুই পক্ষের শিক্ষাকে একত্র করে পারস্পরিক বোঝাপড়াভিত্তিক নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিবেশ গড়ি।

আন্তর্জাতিক ও জাপানি কর্মীরা একসঙ্গে কাজ ও নিরাপত্তা শিখছেন
দুই পক্ষ একসঙ্গে শিখে পারস্পরিক বোঝাপড়ার কর্মক্ষেত্র গড়ে।

5. জাপানে অর্জিত দক্ষতা মাতৃদেশের উন্নয়নে যুক্ত করা

জাপানে শেখা ভাষা, দক্ষতা, নিরাপত্তা, গুণমান ব্যবস্থাপনা ও পেশাগত নৈতিকতা ব্যক্তির ভবিষ্যৎ এবং মাতৃদেশের শিল্প উন্নয়নে কাজে লাগানো উচিত।

জাপানে চাকরি শেষ লক্ষ্য নয়; দেশে ফেরার পর চাকরি, উদ্যোক্তা হওয়া, প্রশিক্ষক তৈরি ও শিল্পোন্নয়নও আমাদের লক্ষ্য।

দেশে ফেরা পেশাজীবী তরুণদের দক্ষতা শেখাচ্ছেন
জাপানে অর্জিত দক্ষতা পরবর্তী প্রজন্ম ও শিল্পোন্নয়নে ছড়িয়ে পড়ে।

আমাদের উদ্দেশ্য

নিচের কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা দর্শন বাস্তবায়ন করি:

  • জাপানি ভাষা, পেশাগত দক্ষতা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, জীবন ও সংস্কৃতি শিক্ষা
  • খাতভিত্তিক পাঠ্যক্রম, উপকরণ, নির্দেশিকা ও মূল্যায়ন মান তৈরি
  • বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা
  • শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও মূল্যায়নকারী তৈরি এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন
  • গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং প্রস্তুতি সহায়তা
  • আন্তর্জাতিক মানবসম্পদের অধিকার রক্ষা ও অনুপযুক্ত দালালি প্রতিরোধ
  • জাপানে শেখা দক্ষতা মাতৃদেশের উন্নয়নে যুক্ত করা
  • জাপানি ও বিদেশিরা পরস্পরকে সম্মান করে একসঙ্গে কাজ ও বিকাশ করতে পারে এমন সমাজ গড়া

অ্যাসোসিয়েশনের অবস্থান

আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য sending organization, supervising organization বা registered support organization হিসেবে কর্মী স্থাপন করা নয়।

আমরা শিক্ষা, মূল্যায়ন, তথ্য এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংযোগের নিরপেক্ষ ভিত্তি হয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নের মান ও ব্যবস্থার সুস্থতা রক্ষা করি।

আমাদের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ

জাতীয়তা নির্বিশেষে শেখা ও কাজের ইচ্ছাসম্পন্ন মানুষ সঠিক শিক্ষা ও ন্যায্য সুযোগ পায় এমন সমাজ।

আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ জাপানে সম্মানিত হয়ে নিরাপদে কাজ ও বিকাশ করতে পারে এমন সমাজ।

প্রতিষ্ঠান শুধু শ্রমঘাটতি পূরণ নয়, সবার সঙ্গে নতুন মূল্য ও সম্ভাবনা সৃষ্টি করে এমন সমাজ।

শিক্ষার শক্তিতে আমরা জাপান ও বিশ্বকে যুক্ত করা টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ গড়ব।

আন্তর্জাতিক মানবসম্পদ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেও পূর্ণাঙ্গ পূর্বশিক্ষা নিতে হবে

বিদেশি কর্মীর আগমন-পূর্ব শিক্ষা একাই নিরাপদ কাজ ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে না। গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেও প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও মানসিক প্রস্তুতি অর্জন করতে হবে।

এটি শুধু শ্রমঘাটতি পূরণ নয়; ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও কাজের ধারণাসম্পন্ন নতুন সহকর্মীকে স্বাগত ও বিকশিত করার উদ্যোগ।

প্রতিটি কর্মীর জন্য প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিত skill-up plan তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে—ধাপভিত্তিক লক্ষ্য, শিক্ষা পরিকল্পনা, মূল্যায়ন ও নিয়মিত feedback-সহ।

প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় শিক্ষার বিষয়:

  • গ্রহণের উদ্দেশ্য ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব
  • Technical Intern Training, Specified Skilled Worker ও Employment for Skill Development-সহ ব্যবস্থা ও আইন
  • জাতীয়তা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও জীবনযাপনের বোঝাপড়া
  • সহজ জাপানি ভাষায় স্পষ্ট নির্দেশনা
  • পেশাগত শব্দ, কাজের ধাপ ও নিরাপত্তা বিধি বোঝানোর কৌশল
  • বৈষম্য, পক্ষপাত ও harassment প্রতিরোধ
  • কর্মঘণ্টা, মজুরি, ছুটি ও বাসস্থানের সঠিক ব্যবস্থাপনা
  • পরামর্শ গ্রহণ ও সমস্যা দ্রুত শনাক্তের ব্যবস্থা
  • জাপানি কর্মীদের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়ার কর্মক্ষেত্র
  • দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ career সহায়তা
  • skill-up plan এবং ধাপভিত্তিক শিক্ষা ও মূল্যায়ন

একবার শুনেই জাপানি নির্দেশনা পুরোপুরি বোঝা সহজ নয়। না বোঝা মানে অযোগ্য বা অনাগ্রহী হওয়া নয়।

গুরুত্বপূর্ণ হলো শুধু শেখানো হয়েছে কি না নয়, সঠিকভাবে বোঝানো হয়েছে কি না। সহজ ভাষা, ছবি, চিত্র ও বাস্তব বস্তু ব্যবহার করে বোঝাপড়া যাচাই করতে হবে।

প্রস্তুতি, ব্যাখ্যা, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি বা পরামর্শের পরিবেশের ঘাটতিতেও সমস্যা হয়। তাই মালিক, ব্যবস্থাপক, মাঠ-দায়িত্বশীল ও জাপানি কর্মীদের গ্রহণের আগে একসঙ্গে শিখতে হবে।

যে প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক কর্মীকে ভালোভাবে গড়তে পারে, সে জাপানি তরুণ কর্মীকেও ভালোভাবে গড়তে পারে। স্পষ্ট নির্দেশনা, দৃশ্যমান প্রক্রিয়া, সহজ পরামর্শ ও পার্থক্যের সম্মান সবার জন্য কর্মক্ষেত্র উন্নত করে।

শুধু আন্তর্জাতিক মানবসম্পদকে বদলাতে বলা নয়; প্রতিষ্ঠানকেও শিখতে, বদলাতে ও বিকশিত হতে হবে।

শিক্ষা বোঝা নয়; দুর্ঘটনা, চাকরি ছাড়া, ভুল বোঝাবুঝি ও বিরোধ ঠেকিয়ে মানুষকে প্রতিষ্ঠানের শক্তিতে রূপান্তর করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।